পৃথিবীতে প্রচলিত মজার মজার কিছু আইন

  এ্যাড. মোঃ মাসুম বিল্লাহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা।    14-05-2026    81
পৃথিবীতে প্রচলিত মজার মজার কিছু আইন

পৃথিবীর সব মজার আইন বলা প্রায় অসম্ভব 😄—কারণ প্রায় প্রতিটি দেশ, রাজ্য ও শহরে আলাদা আলাদা করে কিছু অদ্ভুত আইন আছে। তবে বিভিন্ন দেশের কিছু বিখ্যাত মজার বা অদ্ভুত আইন রয়েছে। যেমন- যুক্তরাজ্য: সংসদ ভবনে মারা যাওয়া বেআইনি বলে একটি প্রচলিত ধারণা আছে (মূলত মিথ, তবে জনপ্রিয় গল্প)। রানীর ডাকটিকিট উল্টো করে লাগানো আইনত অপরাধ (পুরনো রাজকীয় নিয়ম থেকে এসেছে)। যুক্তরাষ্ট্রঃ এলাবামা– রবিবার ডোমিনো খেলা নিষিদ্ধ (পুরনো আইন, এখন প্রায় অচল)। এ্যারিজোনা– গাধাকে বাথটাবে ঘুমাতে দেওয়া বেআইনি। ফ্লোরিডা– অবিবাহিত নারী রবিবার স্কাইডাইভ করলে জরিমানা হতে পারে (পুরনো ও প্রয়োগহীন আইন)। ক্যালিফোর্নিয়া– গাড়ি ধোয়ার সময় অন্তর্বাস পরে থাকা নিষিদ্ধ (পুরনো ও অদ্ভুত আইন হিসেবে পরিচিত)। জাপান- ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের কোমরের মাপ নির্দিষ্ট সীমার বেশি হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা হয় (২০০৮ সালের “মেটাবো আইন”)। সিঙ্গাপুর- চুইংগাম বিক্রি প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য কঠোর আইন)। ফ্রান্স- শূকরের নাম “নেপোলিয়ন” রাখা আইনত নিষিদ্ধ (ঐতিহাসিক কারণে—যদিও বাস্তবে খুব কমই প্রয়োগ হয়)। সুইজারল্যান্ড- রাতে ১০টার পর টয়লেট ফ্লাশ করা নিষিদ্ধ—এমন ধারণা আছে (আসলে এটি শব্দদূষণ নিয়মের ভুল ব্যাখ্যা)। ইতালী- ভেনিস শহরে কবুতরকে খাবার দিলে জরিমানা হতে পারে (ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার জন্য)। স্পেন- বার্সেলনায় সৈকতের বাইরে সাঁতারের পোশাক পরে ঘোরাফেরা করলে জরিমানা হতে পারে। থাইল্যান্ড- দেশের মুদ্রার ওপর পা রাখা বেআইনি (কারণ তাতে রাজার ছবি থাকে)। জনসমক্ষে অন্তর্বাস ছাড়া বের হওয়া আইনত অপরাধ। কানাডা- কুইবেক শহরে ব্যবসার সাইনবোর্ডে ফরাসি ভাষা প্রাধান্য দিতে হবে। কয়েন দিয়ে বড় অঙ্কের পেমেন্ট সীমিত—অতিরিক্ত কয়েন নিলে দোকানদার না বলতে পারেন। জার্মানী- অটোবানে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কারণ এটি এড়ানো যায় এমন অবহেলা হিসেবে ধরা হয়। আরব আমিরাত- জনসমক্ষে অশালীন আচরণ বা অতিরিক্ত স্নেহপ্রদর্শন করলে জরিমানা/শাস্তি হতে পারে। গ্রীস- প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে হাই হিল জুতা পরে প্রবেশ নিষিদ্ধ (স্থাপনা ক্ষতি রোধে)। ফিলিপিন্স- ম্যানিলা শহরের কিছু এলাকায় সোমবারে নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বরপ্লেট চলাচল করতে পারে না (ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে “number coding” ব্যবস্থা)। চায়না- সরকারি অনুমতি ছাড়া “পুনর্জন্ম” দাবি করা আইনত নিষিদ্ধ—বিশেষ করে তিব্বতি বৌদ্ধ লামাদের ক্ষেত্রে (ধর্মীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ আইন থেকে এসেছে)। ভারত- ঘুড়ি ওড়াতে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়ম ভাঙলে জরিমানা হতে পারে (বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা কারণে)। ডেনমার্ক- পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে ধরা হলে পালানোর জন্য আলাদা শাস্তি না-ও দেওয়া হতে পারে—কারণ “স্বাধীন হতে চাওয়া মানবিক প্রবৃত্তি” হিসেবে ধরা হয় (আইনি ব্যাখ্যার মজার দিক 😄)। নরওয়ে- Svalbard–এ মারা যাওয়া নিরুৎসাহিত— কারণ চিরতুষার জমির জন্য কবর দেওয়া কঠিন (বাস্তবে গুরুতর অসুস্থদের মূল ভূখণ্ডে পাঠানো হয়)। ফিনল্যান্ড- ট্রাফিক জরিমানা আয়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়—অর্থাৎ বেশি আয়, বেশি জরিমানা! আইসল্যান্ড- একসময় নির্দিষ্ট কুকুর প্রজাতি রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল (রোগ নিয়ন্ত্রণের কারণে; এখন অনেকটাই শিথিল)। চিলি- শান্তিয়াগো শহরে কিছু সরকারি ভবনে চুম্বন করা নিষিদ্ধ ছিল (শালীনতা রক্ষার পুরনো নিয়ম)। বি:দ্র: নিজে জানুন এবং শেয়ার করে অন্যদেরও জানতে সহযোগিতা করুন, ধন্যবাদ ♥️

আইন-কানুন-এর আরও খবর